একটি অপেক্ষার গল্প

সেমিস্টার ব্রেক চলছে। ল্যাব, পেসেন্ট ভিজিট সব মিলিয়ে লাস্ট সেমিস্টারটা খুব প্যরাতে গেছে।
অনেক দিন ধরেই তুশির বাবা ফ্যামিলি ট্যুরের কথা কথা বলছেন। তুশির ব্যস্ততায় হয়ে উঠে নি। সবাই মিলে ঠিক করল এইবার রেমাক্রি ফলসে যাবে।
তুশির ছোট দুই ভাই রিহাদ আর রিয়ান খুব এক্সাইটেড হয়ে আছে। ট্রাভেলার্স অফ বাংলাদেশ গ্রুপে নানা লোকজনের রেমাক্রি, নাফাকুম, আমিয়াখুমের ফলসের ছবি দেখে। ইস কত সুন্দর সুন্দর ছবি। আর খরস্রোতা সাংগু নদীর নৌকাতে নৌকায় ছুটে চলার গল্প।
-আপু তুমি কি জান ঐ দিকে শীত লাগবে কিনা শুনেছি শীত লাগে নাকি?
-হু পাহাড়ি আবহাওয়াই এমন । দিনের বেলা গরম পাবি আর রাতে ঠান্ডা। আর দেখবি ঝুপ করে কুয়াশা নেমে আসছে।
– বাহ, অনেক মজা হবে তো ।
-হু , আর বেশি দুষ্টামি করবি না তাহলে ভুত এসে তোকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে।
-এহ কি বল এই সব। আমার বাসায় তুশি আপুর মত পেত্নী থাকতে অন্য ভুত ঘেঁষার চান্সই পাইব না। আর আসলেও দেখবা পুরুষ ভুত আসবে তোমার সাথে চান্স নিবার জন্যে। 😛
 
এই বলে রিহাদ দৌড় দেয়।
শনিবার সকালে বান্দরবান পৌঁছে। সকাল থেকে বান্দরবানের আশে পাশ ঘুরা ঘুরি করে। প্রথমেই চলে যায় মেঘের রাজ্য নীলাচলে । অহ কি সুন্দর । মনে মাথার উপর দিয়ে মেঘগুলো ভেসে যাচ্ছে। :O
-এই আপু আমাকে একটা ছবি তুলে দাও না।
-দে দিচ্ছি ঠিক আছে , আমাকে কিন্ত তুলে দিবি, ওকে ?
-হুম আপি দিব । কথা না বলে ঐ মেঘের ভেলা সহ ছবি নাও চলে যাচ্ছে তো আপু তারাতারি কর।
স্বর্ন মন্দিরে প্রবেশে বিপত্তি রিহাদ শর্টস পড়া ছিল। কোন ভাবেই থাকে ঢুকতে দিবে না। শেষে ফুল প্যান্ট পড়ে ঢুকতে হয়েছে।
-আচ্ছা আপু বল তো ধর্মীয় স্থান ঠিক আছে কিন্ত পর্যটন স্পট হিসেবে এই সবের কি দরকার।
-হুম ভাল কথা আচ্ছা বল তো তোর সামনে যদি কেউ হাফ প্যান্ট পড়ে মসজিদে প্রবেশ করে তুই কি করবি ?
– কি করব মানে চিল্লাই উঠব মসজিদে কিসের হাফপ্যান্ট পড়ে প্রবেশ?
-হুম গ্রেট , বুঝেছিস অন্যের ধর্মের প্রতি তাহলে সম্মানবোধ থাকতে হবে।
– আচ্ছা তুমি কি জান এই মন্দিরটি কবে স্থাপিত হয় ?
– হু আসার আগে আমি গুগল করে উইকিপিডিয়া সহ বেশ কিছু ব্লগ পড়েছি। উইকিপিডিয়া মতে
” এই বৌদ্ধ মন্দির স্থানীয়দের কাছে কিয়াং নামে পরিচিত। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মন্দিরটি বালাঘাট থেকে ৪ কিমি এবং বান্দরবন
সদর থেকে ১০ কিমি দূরে অবস্থিত । ১৯৯৫ সালে শ্রীমং উ পঞঞা জোত মহাথের এই মন্দিরটি স্থাপন করেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র এই তীর্থস্থানটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ২০০৪ সালে।
মিয়ানমার হতে নির্মাণ শিল্পী এনে এই মন্দিরের মূল নির্মাণ কাজগুলো করা হয়। মন্দিরের বাইরের অংশে ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে তিব্বত, চীন, নেপাল, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভূটান, মায়ানমার,কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশের শৈলীতে সৃষ্ট ১২টি দন্ডায়মান বুদ্ধ আবক্ষ মূর্তি রয়েছে।
নির্মান কাজে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই যে লেক দেখতে পাচ্ছিস এর নাম দেবতা পুকুর । দেবতা পুকুরটি সাড়ে ৩শত ফুট উচুতে হলে ও সব মৌসুমেই পানি থাকে। বৌদ্ধ’দের মতে, এটা দেবতার পুকুর তাই এখানে সব সময় পানি থাকে, আর এটি স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত হলেও কিন্ত এটি স্বর্ণ নির্মিত নয়। মূলত সোনালী রঙের জন্যেই এটির নাম হয়েছে স্বর্ণমন্দির। “
-হুম। এত জ্ঞান রাখ কিভাবে ? 
বান্দরবান শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে নীলগীরিতে বিকাল তিনটা নাগাদ পৌঁছে।
উফ চার দিকে সুন্দর । মনে হচ্ছে মেঘের ভীতরেই এর অবস্থান। সামনেই কয়েকটা কাপল সবাই সেলফি তুলছে। এদের দেখে তুশির মনে হল জাই আলভারেজ আর এলেক্সিস রেন কাপলের কথা। উফ কত সুন্দর কাপল পৃথিবীময় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তুশি কিঞ্চিত হিংসাবোধ করছে এদের দেখে। :3
হাটতে হাটতে একটু সামনে চলে আসল । রেলিং দেওয়া অংশে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে। তুলুক আমার কি আমিও যাই দেখি কেমন দেখা যায়।
সামনে থেকে পাহাড় আর ছোট বয়ে চলে নদী দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছে স্বর্গে চলে আসছি। :O
– আরে আপনি কেমন আছেন?
তুশি  দেখে আযানের চাচ্চু।
– হুম ভাল আপনি কেমন আছেন? আর আপনি আমাকে চিনেন কিভাবে?
– রিহাদ বলছে তাদের বাসা দুতলায় আর আপনাকে দেখলাম একদিন চা হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাই অনুমান করে নিলাম আপনি রিহাদের বোন। বাই দা বাই আমি আরিয়ান। 🙂
– আমি তুশি।
– ওয়েল পরিচিত হয়ে ভাল লাগল কত দিন থাকবেন ?
– আজকে থানচি কাল রেমাক্রি ফলসে যাব হয়ত ঐখানে দুই এক দিন থাকব সিউর নাই।
– আমিও মাত্র আসলাম আজই ঢাকায় ফিরছি । নীলগীরি এত ভাল লাগল তাই যাবার পথে আবার ঘুরে যাচ্ছি।
-ওহ আচ্ছা তা কেমন কাটল।
-ভাল। বাই দা বাই আপনি কোথা আছেন বা কি করেন।
– এই তো MBBS করছি। আপনি?
– ইকনোমিক্সে মাস্টার্স করে পেটে পুজার ধান্ধা খুঁজছি।
-আরে আপনি তো খুব সুন্দর করে কথা বলেন।
-আপ্নিও।
এমন সময় তুশির বাবা তাকে ডাকল , কার সাথে কথা বলছ, চল দেরি হয়ে যাচ্ছে । সন্ধ্যার আগেই আমাদের থানচি পৌঁছাতে হবে।
-আব্বা উনি আমাদের পাশের বিল্ডিং এ আযান আছে না তার চাচ্চু।
-ওহ আচ্ছা। কি খবর ইয়াং ম্যান পরিচিত হয়ে ভাল লাগল। আজকে দেরি হয়ে গেল, এখনই যেতে হচ্ছে অন্য একদিন তোমার সাথে গল্প করা যাবে।
চাঁদের গাড়িতে বসে তুশি ভাবতে লাগল
-আচ্ছা বাবা তুমি আর একটু পরে আসলে কি হত ? এট লিস্ট ছেলেটার ফেসবুক আইডি নিতাম । বাবা আর আসার সময় পেল না। 🙁
– ঠিক আছে আমি নিজেই খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। :3
-মিস্টার আরিয়ান মশায় তাহলে দেখা যাক ডাল পালার বিস্তার আপনি কতটুকু ঘটাতে পারেন। 🙂
 
মনজু
 

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments

Leave a Reply: