এসইও ফ্রেন্ডলি অপ্টিমাইজড ইউআরএল স্ট্রাকচার

ব্লগিং, এফিলিয়েট  , গুগলের এডসেন্স অথবা অন্য কোন মানিটাইজের জন্যে আমরা যখন  সাইট বানাই তখনি এসইও ফ্রেন্ডলি অপ্টিমাইজড ইউআরএল স্ট্রাকচার বাক্যটা চলে আসে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম সারিতে আমাদের আর্টিকেলকে নিয়ে আসা ।  এক্ষেত্রে অবশ্যই অবশ্যই এসইও ফ্রেন্ডলি ইউআরএল এর দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে !

ইউআরএল কি ?

সবাই হয়ত জানি URL ( Uniform Resource Locator) কি । তারপরও একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক ।

ধরেন আপনি আপনি জাতীয় জাদুঘরে যাবেন কিন্ত আপনি কোন দিন ঢাকায় আসেন নাই বা আপনার কাছে গুগল ম্যাপ নেই তাহলে আপনি কিভাবে যাবেন ? ঢাকায় তো হাজার হাজার স্ট্রাকচার আছে তাহলে কোনটা জাতীয় জাদুঘর ? কিন্ত কেউ যদি বলে দেয় এই বিল্ডিং হচ্ছে জাতীয় জাদুঘর তাহলে আপনি কিন্ত সহজে পৌঁছে যাবেন। আবার যদি একই অবস্থানে একই রকম স্ট্রাকচার অনেকগুলো থাকে তখন কিন্ত কনফিউজ হবার সম্ভাবনা অনেক।

কিন্ত একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে একটা স্ট্রাকচার হলে সহজেই আমরা কাঙ্ক্ষিত স্থানে চলে যেতে পারি। শত শত স্ট্রাকচার মনে রাখার কোন দরকার নেই। নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার মনে রাখলেই হবে।  ইউআরএলও এমনই একটা ব্যাপার । লাখ লাখ সাইটের মধ্য থেকে আপনার সাইটকে আলাদাভাবে আইডেন্টিফাই করা।

ইউআরএল হল একধরনের আইপি এড্রেস, লাইক  104.243.42.202  । বাট এমন লাখ লাখ সংখ্যাযুক্ত সাইটের আইপি আছে  মনে রাখাটা খুব টাফ বলে টেক্সট ইউআরএল এর জন্ম।  monju.me, pipilikha.com  এই সব হল ভিজ্যুয়াল টেক্সট  ইউআরএল।

এসইও ফ্রেন্ডলি অপ্টিমাইজড  ইউআরএল

নীচের ছবিটি দেখুন । দুইটা ইউআরএল যদি মনে রাখতে বলা হয় তাহলে কোনটা আপনার ইজিলি মনে থাকবে ?  একইভাবে আমরা সার্চ ইঞ্জিনকে কল্পনা করতে পারি । অপেক্ষাকৃত সহজভাবে রিড করা যায় এমন URL কে সে প্রাধান্য দিবে।

একই আর্টিকেলের জন্যে আমি দুইটা ইউআরএল এড্রেস উল্লেখ করে দিলাম। আমার টার্গেটেড কি ওয়ার্ড হল গুগল কী ওয়ার্ড প্ল্যানার তাই  ছোট  ইউআরএলকে  আমাদের কাছ  ভাল লাগবে । সার্চ ইঞ্জিনের বটের ক্ষেত্রেও দেখা যাবে ছোট  টার্গেটেড ইউআরএলকে সে প্রাধান্য দিবে।

ইউআরএল

অপ্টিমাইজড ইউআরএল

 

ধরি best fishing kayak কে কীওয়ার্ড ধরে আপনি একটা আর্টিকেল পাবলিশ করলেন । আর্টিকেলের কনটেন্ট ৩০০০-৫০০০ ওয়ার্ডের দিয়েছেন এবং খুব কোয়ালিটিফুল। কিন্ত ইউআরএল লিঙ্কের দিকে আপনার নজর ছিল না। আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাক্তি আপনার থেকে কম শব্দের আর্টিকেল লিখে সার্চ ইঞ্জিনে আপনার উপরে অবস্থানে চলে আসল  । এখানে  SEO এর অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলো দুই জনই একই কাজ করেছে। তার পরেও প্রতিদ্বন্দ্বী কিভাবে আপনার উপরে অবস্থানে চলে আসল ?

এখানে চলে আসে ইউআরএল স্ট্রাকচার । প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তি SEO অপটিমাইজ ইউআরএল ব্যবহার করেছে এটাই হলে রহস্য । তাই আমাদের অবশ্যই এসইও অপ্টিমাইজ স্ট্রাকচার ইউআরএল এর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

 

অপ্টিমাইজড ইউআরএল স্টাকচার

এবার একটা আর্টিকেলকে সার্চ ইঞ্জিনের চোখে কোয়ালিটি প্রুফ করতে ইউআরএল এর যে সব বিষয়ে আমাদের মনযোগ দিতে হয় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক

ডোমেইন নেমঃ

ডোমেইন নেম ক্রয় করার সময় আমরা চেষ্টা করব TLD (Top level domain) এক্সটেনশন নেবার যেমন .com, .net ইত্যাদি।  এখানে মনে রাখা প্রয়োজন  অনেকেই মনে করে কীওয়ার্ড ম্যাচ ডোমেইন নিলে হয়ত সেটার SEO বেনিফিট পাবে। ধারনাটা ভুল  !  ২০১২ সালের পর থেকে গুগল কীওয়ার্ড ম্যাচ ডোমেইনকে ভ্যালু দেয় না। ম্যাট কাটস এর টুইটটা দেখতে পারেন চাইলে

matt cutts এর টুইট

ধরেন আপনার কী ওয়ার্ড best fishing kayak . এখন আপনি ডোমেন নিলেন  bestfishingkayak.com । এর পর আবার কীওয়ার্ড সহ আর্টিক্যাল দিলেন bestfishingkayak.com./best-fishing-kayak।

হু দেখুন ওভার অপ্টিমাইজ হয়ে গেল না ?  হ্যাঁ এখন ব্যাপারটাকে স্প্যামি হিসেবে দেখা হয়। বরং চেষ্টা করুন সহজে মনে রাখা যায় এবং কী ওয়ার্ডের সাথে কাছাকাছি রিলেটেড কোন ডোমেইন নিতে।

পার্মা লিংক ঃ

ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের এডমিন প্যানেলে গিয়ে সেটিংস থেকে পার্মালিংকে গিয়ে কাস্টম স্ট্রাকচার বা পোষ্ট নেম  সিলেক্ট করে দিন। এত করে আপনি url এক্সটেশন অংশ ইচ্ছামত লিখতে পারবেন। যেমন url এর শেষে আপনি আপনার ইচ্ছামত কী ওয়ার্ড দিতে পারছেন। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে SEO ভ্যালু নেই।

পার্মালিংক

পার্মালিংক

 

কীওয়ার্ডের ব্যবহারঃ

যে কী ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে আপনি আপনি আর্টিক্যাল লিখিয়েছেন সেই কী ওয়ার্ডটি url এ প্রদান করুন । এতে সার্চ ইঞ্জিন অন্যদের তুলনায় আপনার আর্টিক্যালকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করবে। তবে ১-২ টার বেশি কী ওয়ার্ড না দেওয়াই ভাল ।

কী ওয়ার্ড হল গুগল কী ওয়ার্ড প্ল্যানার

 

স্পেশাল ক্যারেক্টারের ব্যবহারঃ

url এক্সটেনশনে আমাদের উচিত হাইফেন(-) ব্যবহার করা। স্পেস , আন্ডারস্কোর (_) , হ্যাস (#) বা অন্যকোন স্পেশাল ক্যারেক্টার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে । হাইফেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের উচিত যথা সম্ভব কম সংখ্যক ব্যবহার করা। অতিরিক্ত হাইফেন সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার আর্টিকেল লিংকটিকে স্প্যামি করে তুলবে !

 

ক্যারেক্টার সংখ্যাঃ

url  আমরা যথা সম্ভব ছোট রাখার চেষ্টা করব . তবে  কোন কারনে যদি বড় করতেই হয় তাহলে সেটা যেন  ২০৪৮ ক্যারেক্টারের বেশি না হয় । কারন ইন্টারনেট এক্সপ্লোয়ার এর বেশি ক্যারেক্টার হলে রেন্ডার করতে পারে না।

 

প্যারামিটার/ সাব ফোল্ডার ব্যবহারঃ

url এর চেষ্টা করুন যেন সাব ফোল্ডার বা প্যারামিটারের ব্যবহার না হয় । যদি ব্যবহার করতেই হয় ১-২ টার বেশি প্যারামিটার ব্যবহার না করাই ভাল। বেশি ব্যবহার করলে SEO এর ক্ষেত্রে  নেতিবাচক প্রভাব পড়বে । আবার অনেকে দেখা যায় সাব ফোল্ডারও কি ওয়ার্ড  ম্যাচ রাখে সে ক্ষেত্রে কিন্ত কি ওয়ার্ড স্টাফিং হয়ে যায় ব্যাপারটা । এটা পরিহার করতে হবে ।

 ইউআরএল  বড় না ছোট ?

ইউআরএল ছোট রাখার চেষ্টা করুন । অতিরিক্ত বড় বা অপ্রয়োজনীয় ডায়ানামিক  ইউআরএল পরিহার করার চেষ্টা করুন।

Dp review এর  ইউআরএল স্ট্রাকচার বেস্ট এখানে !

কেইস সেনসিটিভিঃ

আপনি যখন মাইক্রোসফট বেজসড সার্ভারে হোস্ট করবেন তখন কেইস সেনসেটিভ নিয়ে চিন্তা নেই বাট যখন উইনিক্স বা লিনাক্সে হোস্ট করবেন তখন ইউআরএল কেইস সেন্সেটিভ !  ইউআরএল কেইস সেন্সটিভ  তাই  স্ট্র্যাকচার করার সময় অবশ্যই মনোযোগ দেওয়া উচিত।

কেইস সেন্সেটিভ

কেইস সেন্সেটিভ

 

 

মনজু
 

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments

Leave a Reply:

%d bloggers like this: